কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭

৪:০৭:০০ PM

দিশার কিনারা

মায়াবী রাতের জোছনায়
হিমধরা তেত্রিশ বসন্তের ঝড়,
মনের জানালা ভেঙ্গে, পালাতে চায়
দুমড়ে মুচড়ে  দিতে চায় -
আমাকে আর আমার আমিকে। 
 
সবাক সন্ধিক্ষণে, 
কোন পোড় বাড়ির ছাদের তলে,
ভাঙ্গা দেয়াল ঘেঁষে,
চাঁদটা যখন উঁকি দেয়- 
তখন দিশার কূলকিনারা,
বাতাসের শব্দে,
মাতোয়ারা আঙিনা।

ঝিঁঝিঁপোকার ঝিঝি ডাক, 
মিলিয়ে যায় বাতাসে, 
হারায় দিশার কূলকিনারা,
পাগলের উন্মদনায়,
ভেসে উঠে আর একটি মানব। 

ভেঙ্গে দিতে চায় তোমাকে,
তোমার শত বছরের লালায়িত
 ফুলের বাসরকে, 
উপরে উপরে সুগন্ধ,  
বাতাসকে করে মধুময়, 
আমাকে করে মোহিত, 
মিথ্যে বাসার তলে, 
ফানুস নৌকায় চেপে,
যাবে কতদূর?
ঠিকানা তো তোমার আমার একটাই।

রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭

১:৪৩:০০ PM

সুখ সদন

ক্লান্ত মনে, কেন এই আলোড়ন? 
ক্লান্ত হৃদয়, চায় একটু অবসান। 
 ক্লান্ত আশা, দেখেনা স্বপন।
ক্লান্ত পথিক, খোঁজে না আশ্রম।


 দু চোখের নীলিমায়, 
যত টুকু প্রতীক্ষা, 
সব টুকু তোমায় দিলাম,
 তবু হও যদি অনামিকা।

আমার ভ্রান্ত খাঁজে, 
বক্রতার মাঝে, 
সুধা লালায়িত অমৃতে, 
 সুখ সদনে আমি,
 রাখবো তোমায় যতনে। 

 চৌচির চৌকোঠায়, 
 নিত্য আসে নিত্য যায়, 
 কোন বাধনের বাহানায়,
 সেকল শুধু ছিঁড়ে যায়। 

 অমৃতের সুধা মেখে,
 শিশির ভেজা গোলাপে, 
 গন্ধরাসে বন্ধ বাসে, 
সুখ বিষে নিত্য মনে।

বুধবার, ৭ জুন, ২০১৭

১:১৬:০০ PM

Bhiť

Sanam diń mań inaḱ bhiť re
Cedaḱ ẽm jhilạ koaḱ?
Bhiť dom lũsũpũńḍũ keť tiń.

Baḍai gecom--
Iń ma amaḱ mẽt ńel lekhać
Dhũd geń ńel.
Ãmaḱ sẽńgel arať teń,
Loḱ ge.

Amaḱ muṭhạṅ iń ńel lekhać,
Dhạrti geń hiṛiń.
Cedaḱ am do oṅka?
Ńel re hõ bạrić,
Baṅ re hõ sĩṛić.

Hãpe joba baha, baha purạo leń ge,
Huḍur daḱ ko ṭhoṛa leń ge,
Dạkiń hoi rẽạṛ mạchić leń ge.

Kãpurmũli baha,
Sut́ re soge kateć iń lại ama,
Ińaḱ jiwi tinạḱ chaṭ paṭaoḱ kań tińạ.
Bhạdại busuḱ re sogeḱ lạgiť,
Reaṛ daḱ re umuḱ lạgiť.
Jioṅ ṭhão keteć lạgiť.

ẽńteť ãm re ge jiwi batao,
Jạť badhao,
Dulạṛ bachao,
Suluḱ joiṅ,
Hoṛmo reaṛ.

শনিবার, ১৩ মে, ২০১৭

২:০৪:০০ PM

মা

মা ধন্যবাদ একটা দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়,
মা
একটি দিবসের জন্যে নয়,
মা
প্রতিটা ক্ষন প্রতিটা মুহুর্তের জন্য,
মা
অকৃত্রিম ভালবাসার চাদরে মোড়ানো,
মা
ধন্যবাদ প্রাপ্যতায় প্রতিটি মুহুর্তেই,
মা
মা হয়ে থাকুক জন্ম থেকে আমৃত্যুতে,
মা
ভাষাহীন ভালবাসার বন্ধনে,
মা
জড়িয়ে থাকুক আজীবন।


সোমবার, ২০ মার্চ, ২০১৭

১০:৫৭:০০ AM

উষ্ণ থাকো

হয়ত অনেক দিন থাকব- দেখা, না দেখার মাঝে।
ততদিন তুমি থেকো-তোমার মত করে,
শুধু তোমার স্মরণের অন্দর মহলে,
মোর স্মৃতির দ্বীপ রেখো জ্বালিয়ে।


আমি যখন আসব ফিরে,
আমায় যেন চিনতে পার।

আমি যখন থাকব না,
হৃদয় যেন উষ্ণ থাকে।

সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

১২:৪৯:০০ PM

আজ সকালটা

আজ সকালের সুর্যটা যদি
এ ভাবে তেতিয়ে না উঠতো।
আমি তোমাকে আমার ভিতরেই রেখে দিতাম,
যত পোড়ানো সদা গন্ধ
আমি নিভৃতেই হজম করতাম।
কিন্তু আজ সকালটা
বড় বেশী হেয়ালীপনা করল,
সাত সকালে কি দরকার ছিল?
ক্ষতগুলোকে মনে করে দেয়ার,
ভালোই তো ঘুমের অতলে
ভোলার সাগরে,
স্বপ্নের কাননে,
তোমার স্বার্থপরতাগুলোকে ছাপিয়ে।
সুর্য তুমি বড়ই নিষ্ঠুর,
সকাল তুমি বড়ই বেরসিক,
শয়নেও পোড়াও, জাগরনেও পোড়াও,
আবার খরতাপেও জ্বালাও।

সোমবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৭

৩:৩২:০০ PM

হড়

















তুমি বলেছিলে-

তোমার দু’পায়ে দাড়িয়ে থেকো,
মাটিটাকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে।
তুমি বলেছিলে-

বুকের পাঁজরটাকে ঢাল করে,
শির উচু করে থেকো।
তুমি বলেছিলে-
শকুনেরা উড়ছে আকাশে,
খাবে তোমার জ্যান্ত শাবটাকে।
তুমি বলেছিলে-
দু’বাহু তোমার শক্ত থাকে যেন,
তীর-ধনুকের শানে।
তুমি বলেছিলে-
তোমার সরলতার মাঝে,
সর্বনাশ লুকিয়ে আছে।
তুমি বলেছিলে-
হাতে হাত রেখে,
রেখো তোমায় বন্ধনে।

দাদাঠাকুর-
আজ আমি বড় অসহায়,
রাখতে পারিনি তোমায় কথা।
শকুনেরা ডানা ঝাপটায় শিরদাড় ঘেঁসে,
পায়ের তলায় মাটিটাও যাচ্ছে সরে,
দু’বাহু রাখতে পারিনি সবল
সরলতা যে তোমারই দেয়া উপহার,
লুকাতে পারিনি কোনভাবেই।
বাড়িয়েছি হাত, ধরেনি কেউ
বাড়িয়েছি হাত, ছুতে পারিনি কাউকেও।

দাদাঠাকুর! দাদাঠাকুর!! দাদাঠাকুর!!!
আমি কি পারিনা দাঁড়াতে,
পারিনা ভেঙে দিতে শকুনের বিষদাতঁ,
সরলতার মূর্তিমায়,
গড়তে পারিনা পাথরের অভিব্যক্তি।
হাতে হাত রেখে,
শত হাতের বন্ধনে,
তুলে ধরতে পারি না কি তোমাকে?

বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

১২:৪৪:০০ PM

হড় পোড়ে না















আমি হৃদ মাঝারে বসে কামনার জ্বালায় জ্বলি , আর তুমি! মাঠে, ঘাটে, বাসে, বন্ধুদের আড্ডায়, আগামী দিনের স্বপ্নের জাল বুনো। আমি আমার অস্তিত্বের যন্ত্রণায় কাতরায়, আর তুমি ! কাগজে কলমে, বইয়ের পাতায়, ভবিষ্যতের রঙ্গিন দিনের স্বপ্ন আঁক । আমি আর তুমি! কি বিরাট ব্যবধানেই দূরত্বে, মননে, বাসনায়, কল্পনাতে। আমি যখন শীতের এই রাতে, খোলা আকাশের নীচে, কাঁপতে থাকা শিশুটির কথা ভাবি- তখন আমার উষ্ণ শরীরে শীতের কুয়াশা নেমে আসে। বাকরুদ্ধ মোটা ঠোট দুটো কাঁপতে থাকে। ভিতরটা চিৎকার করে হুঙ্কার দিয়ে উঠে। আমার ছটপটে সারারাত নির্ঘুম কাটে। আমি যখন একদল ঘর হারা মানুষের কথা ভাবি, যারা এই ক' দিনের আগেও, শীত-বৃষ্টি থেকে নিজেকে বাঁচাত, আজ তারা খোলা আকাশের নীচে- আজ তারা অনাহুত বাসিন্দা, আজ তারা উদবাস্ত, আজ তারা নিরাশ্রয়। আমি তখন কি করে, লেপ কাঁথা কম্বলে, নিজের স্বপ্নকে আগলে ধরে, কামনার রেতঃপাতে? তুমি তো তোমার মত ভেবে, এটা খুজো ওটা খুঁজো নিজে নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাক, তোমার দৃষ্টির সীমানায় চোখ যায় না, যতদূর আমি দেখি। তোমার না দেখাতে, কত কিছুই যে চাপা পড়ে নীরবে, বড় বেশি অনাদরে। তুমি যদি একবার, চোখ মেলে দেখতে, তুমি যদি একবার, মন খুলে ভাবতে, তুমি যদি একবার, হৃদ মাঝারে খুঁজতে, তুমি যদি একবার, তোমার নিজের দিকে তাকাতে। তাহলে দেখতে পেতে, হড় পোড়ে কিসে? তাহলে দেখতে পেতে, হড় মরে কিসে? তাহলে দেখতে পেতে, হড় হারে কিসে? আমি, আমি তোমাকে, তোমাকেই দায়ী করলাম, আমার আদালতে, আমার বিচারে, আমার বিশ্বাসে, আমার নিঃশ্বাসে, তুমিই দায়ী, তুমিই অপরাধী। তোমার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। খুলে ফেলা উচিত, তোমার পদবির সম্ভার, ঝেড়ে ফেলা উচিত, তোমার শরীরের প্রকৃতির গন্ধ, মুছে ফেলা উচিত , তোমার নিশানার টগবগে রক্ত। যাকে তুমি লালন কর না, যাকে তুমি পালন কর না। তবে কেন তার লেবাস মেখে, মেকি সেজে, এই ছলচাতুরী?

রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৬

১১:৩৩:০০ AM

বাতাসের সাথে কথোপকথন

সেদিন ছিল আধো পূর্ণিমা,
আমি ইট কাট পাথরের জঙ্গলে বসে, দুর নিয়নের দিকে তাকিয়ে, সীসা মিশ্রিত বাতাস এসে, কানে কানে বলল- কি ভাবছ? আমি বললাম, হড়দের নিয়ে। ঠিক তখনি দুর্বার দমকা বাতাস, ঝাটকা মেরে, বলল - চুপ কর, ভাবনা থামা, পারবি না, পারবি না তুই। আমিও তখন উত্তপ্ত, হুঙ্কাকারে বললাম, কেন! কেন!! কেন পারবো না? আমিও তো মানুষ, আমারও গায়ে লাল রক্ত। হাসির চলে, বিষ বাস্প উড়িয়ে জবাব আসে, মীরজাফর! মীরজাফর!! মীরজাফর!!! মীরজাফর তোর আসে পাশে, মীরজাফর তোর ঘরের মধ্যে। মীরজাফরের জন্যেই তো দু শোঁ বছরের কলিনতা। নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবি, ইতিহাস তোকে লন্ঠন দিয়ে খুঁজবে। আমি তখন বেসামাল, রক্তের গতি সর্বোচ্চ, দারিদ্রতা আছে, পেটে ভাত নাই, তাই যে যা বলে তাই করি, জীবনের প্রয়োজনে একজনকে বেচি, এক জাতিকে বেচি, বেচি বার বার অনেকবার। কেউ কেউ নিজের টানে, জীবীকার বাণে, রাস্তায় নামে, বিক্রির তরে, বিক্রেতার সাজে। দর কষাকষি, বিকিকিনি, জীবনের রথে উঠার তরে, আদিবাসীটাই পুঁজি, ভুখা নাঙ্গা মুখগুলিই তাদের পণ্য, ব্যবসায়িরা তো থাকবেই সামনের কাতারে, প্লাটফরমে, বৈঠকে, প্রতিনিধিত্বে। দেশে বিদেশের আন্তর্জাতিক ফোরামে। বাতাস আমায় চিৎকার করে বলে, মূর্খ ! কন্ড মূর্খ তুমি!! দেয়ালের কোনে বসে কল্পনার ছবি আঁক, তোমাকে বেচবে না তো বেচবে কাঁকে ? উঠ রাস্তায় নামো, ঝাণ্ডা ধরো উঁচিয়ে, চিনবে তোমায়, মানবে তোমায়, সাহসীরে কেউ করে না নত, সাহসীর নাই ভয়, সাহসীর নাই ক্ষয়।

রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

৬:০৭:০০ PM

বহুরুপি

যখন আমরা বলি,
তখন কত লুকোচুরি।
যখন ওরা বলে,
তখন কত হাসির ঝলকানি।
নিজে নিজের মধ্যেই চোরাকারবারি,
ভাবের ঘরে কর চুরি।

এ চুরি চিরকালই চোর বানিয়ে রাখে,
অজান্তেই বাধে এক দাসত্বের বাধন।

চার দেয়ালে বন্দি যখন,
ভেবো না  কেউ দেখছে না,
বনের বাঘে যত না খায়,
তার চেয়েও বেশী খায়,
মনের বাঘে।

যতই আড়াল কর নিজেকে,
মেকি হাসির মায়াজালে,
একদিন তোমার মনের বাঘই,
গিলে ফেলবে তোমাকে।
৬:০৬:০০ PM

একদিন আমিও

যদিও একদিন,
ভাঙা খাটে জীর্ণ বিছানায়,
কত স্বর্ণালীর স্বপ্ন বুনন।
ভাঙা জানালার ফাঁকে,
দুর নীলিমার দিকে চেয়ে থাকা,
শুধুই হাতছানি।

ভাঙা জানালার পাশ দিয়ে,
বয়ে চলা চুড়ির রিনিঝিনি শব্দ,
এ পাশ ও পাশ করা ভাঙা খাটের শব্দ,
নাকে ভেসে আসা পারফিউমের গন্ধ।
শুধুই হাসফিস করে উঠা।

তোমার তখন মৌ বসন্তের কাল,
ফুলে ফুলে সুবাসিত বাগান,
থরে থরে সাজানো পুষ্পরাজি,
আর শত ভ্রমরের আনাগোনা,
মধু বসন্তের গান।

আজ সময় গিয়েছে চলে,
সময়ের স্রোতে,
ভাঙা জানালা, ভাঙা নেই।
শেগুন কাঠের নরম পালঙ্কে শুয়ে,
নিথর চোখে চেয়ে থাকা।
চুড়ির শব্দের বদলে,
গাড়ীর হর্ণে মাতোয়ারা,
নিজ দেহ থেকে গন্ধ ছড়ায়,
দামী পারফিউমের।

ঋতু বদলের দিনে,
বদলে যাওয়া সময়ের স্রোতে,
বড্ড হাসি পায়,
আজব তোমার নব্য বেশভুশায়।

একদিন আমিও,
ঘুরে দাড়ানো দাড়কাক হয়ে,
আমার আকাশ খুলে,
নীলিমার দিকে, হাতছানি নয়!
অবগাহন সুখে,
ভাসাবো ভেলা।
৬:০৫:০০ PM

খেলাঘর

অনেক কষ্টের কান্না দেখতে দেখতে, 
এখন আর কান্না পায় না। 
অনেক হাসির কান্ডকারখানা দেখতে দেখতে,
 এখন আর হাসি পায় না।

 ঐশ্বর্যের মোড়ানো সাফল্য,
 সত্যিকার সাফল্য নয়,
 এত শুধু লোক দেখানো,
 বাহবা প্রত্যাশার লোভ।

অনেক সুখের অভিনয় করে,
 ঘরের কোণে নিভৃতে কাঁদে।
 তবুও মানুষ ছুটে চলে,
 জৌলুসের পিছে।

অনেক হাসির অন্তরালে,
লুকিয়ে থাকে কান্না।
তবুও মানুষ হাসতে থাকে,
বাঁচার তাগিদে।

জগতেরই খেলাঘরে,
কতই রঙের খেলা,
 েকউ আমরা সঙ সাজি,
হৃদয়টাকে ভোলানোর কারসাজি।

জীবন ভোগের আকুতি,
আমৃতু অবধি,
তবুও মানুষের শেষ সম্বল,
মাটির সাথেই সন্ধি।
৬:০৪:০০ PM

প্রেম কী?

প্রেম, হুড তোলা রিক্সায় খুনসুটি,
প্রেম, আলো আধারি গলির কোনে দুষ্টুমি,
প্রেম, পার্কের ঝোপের কোনে চুপচাপ বসে থাকা,
প্রেম, কিশোরীর চোখের ছলছল চাহনী।

প্রেম, না বলা কথার আলোড়ন,
প্রেম, পৌড়ত্বের শেষে ফিরে পাওয়ার আশা,
প্রেম, শেষ হয়ে যাওয়া সিগারেটের বাকী অংশ।

প্রেম, সব কিছু পাওয়ার পর আরও তৃষা জাগিয়ে রাখা,
প্রেম, ফেলে আসা সময়ের হাতছানি,
প্রেম, অন্ধের মত ছুটে চলা,
প্রেম, শেষ হয়ে যাওয়ার পরও কিছু থেকে যাওয়া।

প্রেম, যৌবনের পাগলামী আর পৌড়ত্বের ভাবনা,
প্রেম, কিশোরীর চুম্বনের প্রত্যাশা,
প্রেম, ফিরে ফিরে আসার আদম্য ইচ্ছা।

প্রেম, বদ্ধ ঘরে  জৈবিক ক্রীড়া,
প্রেম, উত্তপ্ত নিশ্বাসের ঝড় তোলা,
প্রেম, ঘামে ভেজা পরিতৃপ্ততা।

প্রেম, শেষ প্রহরের মিষ্টি সুধা,
প্রেম, ভোরের শিশিরে ভেজা ফুলেল শোভা,
প্রেম, সকালের সুর্য্য উঠা।

প্রেম, দুপুরের আলস বেলা,
প্রেম, বিকেলের গোধুলীর মায়া,
প্রেম, সন্ধ্যা তারার ভালাবাসা।

প্রেম, জোনাকীর সাথে সন্ধি করা,
প্রেম, রাতে বিছানার সাথে সহবাস,
প্রেম, ঘুমের মাঝে হারিয়ে যাওয়া।

প্রেম, বিচ্ছেদের মধ্যে বেঁচে থাকা,
প্রেম, সম্প্রদান কারকে শূন্য বিভক্তি,
প্রেম, ডুবে ডুবে জল খাওয়া।

প্রেম, ব্যার্থতার জালে বুনা রঙিন সুতা,
প্রেম, প্রতীক্ষার প্রহর গোনা,.
প্রেম, বুঁদ হয়ে থাকা নেশা।

প্রেম, ঝাল আর মিষ্টির বাসনা,
প্রেম, খাওয়ার পরও অতৃপ্তের স্বাদ।

প্রেম, আবার নতুন করে শুরু করা।

৬:০৩:০০ PM

হৃদয় প্রহরী

আমি ডুব মেরে থাকি আমার মাঝে,
আর তুমি?
বদ্ধ ঘরের অন্ধকারে-আপনলীলায়।
তোমাকে নিয়ে কাব্য হয় না,
কিন্তু আমাকে নিয়ে উপন্যাস।
তাও আবার ভিলেনরুপী।

তোমাদের কত শঙ্খ দুল বেজেছে, বেলায়-অবেলায়।
আমি তখন ক্ষুধার্ত মানব,
জীবন আর জীবিকার।
একটি সিড়ি ভাঙতেই,আবার সিড়ি তৈরী।
একটি স্বপ্ন ছুঁতেই,
আবার স্বপ্ন ভঙ্গ।
আমার এ ভাঙ্গাগড়ায়, তুমি সয়ারি হলে না।

শুধু দুর থেকে দেখে,
মায়া কান্নায় চোখ ভেজালে।
নয়তবা আড্ডায়-আলোচনায় বার বার আমাকে টানলে,
আমি তখন বাঁ-পায়ের তলায় চুলকিনিতে,
তোমাকে স্মরণের দুয়ারে এনে,
ভালবাসা কত পেয়ালা ভরে,
খেয়েছি সুধা অমৃত মনে করে।

ভেবেছিলে আলোচনায়-আলোচনায় ছিন্নপাতার মত,
হারিয়ে যাব,সময়ের স্রোতে।

আর তখন তুমি মুক্ত কুহকের মত,
ডালে-ডালে পাতায়-পাতায় চরবে নির্ভিগ্নে।
তোমার চলার পথে,বলার পথে,
বাধা হয়ে দাড়াবার আর কেউ নেই,
কারন তোমার যা ভাললাগে,
তোমার যা মনে আছে,
তোমার যতটুকু ইচ্ছের ঝুড়ি,
জমিয়ে রেখেছ, তোমার মত করে।

ভুল! ভুল!! ভুল!!!
স্বপ্নগুলো থাকে স্বপ্নের মত করে,
এক মৃতু - স্বপ্নের মৃতু নয়।

প্রহরীরা থাকে জেগে,
যো্দ্ধারা যুদ্ধে
যতই বাঁকাপথের চোরাগলিতে আমাকে রাখ,
আমি ফিরে আসব, ফিরে আসবই,
আসবই তোমার ঐ ঘুমোধরা চোখের পাপড়ির তলে,
তোমাকে জাগিয়ে রাখতে।

রুদ্রু তাপে কিংবা আগুন ঝরা বসন্তের দিনে,
অদৃশ্যের ছায়াতলে,
তোমার বিবেকের ধারঘেঁষে,
শশ্মানের কড়িকাঠে,
কফিনের শেষ পেরেকে,
তোমার অস্তিত্বের মাঝে,
ঠিক জীবনের সায়াহ্নে,
আমাকে পাবেই-
তোমার শেষ নিঃশ্বাসে।
৬:০২:০০ PM

স্বপ্ন বুনা

যে ভাবেই স্বপ্ন বুনো,
স্বপ্নের আধাঁরে অনেকটা পথ,
স্বপ্ন ঘোরে রঙিন সব,
ক্ষনিক আনন্দের মাতোয়ারা রব।

সবুজ ঘাঁসে শিশির মন,
মুক্ত মনের কত আলোড়ন,
কখনো উড়ে রঙিন প্রজাপতি হয়ে,
কখনো ভাসে নীলাকাশের কোনে।

আশার পাখি আশায় বুক বাঁধে,
চঞ্চলও মন কত কি সাধে,
নিয়তি নামক নীল লালসা,
অযথাই বাঁড়ায় মনের পিয়াসা।

একদিন ঘুম ভাঙ্গা সকালে,
রোদ্রের খরতাপে,তন্দ্রা টুকু কেটে যায়,
দক্ষিনা বৈরী বাতাসে।
দরজার চৌকাঠে বসে,
নিয়তির দুষণ, দুষণে,
জীবনের বাকীটা সময়,
জমে রয় অশ্রু চোখের কোনে।
৬:০০:০০ PM

লাগাম

যাহোক যেভাবেই হোক
দুরের পথকে করো খাটো।
ক্লান্ত পথিক ক্লান্ত মনে,
দূর্গম পথে বড়ই অশান্তি।

তুমি ছুটন্ত ঘোড়ার সওয়ার
তোমারই হাতে লাগাম।
টেনে ধরো না, টেনে ধরো,
টেনে ধরো লাগামখানি,
জীবন তো প্রায়ই যায় যায়।

সেই কবে হঠাৎ দুর্ঘটনায়,
হৃদয়ের একপাশটা দগ্ধ হয়েছে,
তোমার হিংসের আগুনে।

আমি তো হৃদয় পোড়া
ক্ষতয় ক্ষতয় জর্জরিত,
তার উপর তোমার সান ঘোড়া,
আমারই উপর দিয়ে ছুটে চলা।

টেনে ধরো না, টেনে ধরো,
টেনে ধরো লাগামখানি,
জীবন তো প্রায়ই যায় যায়।

জীবনের শেষান্তে দাড়িয়ে,
তোমার অট্টহাসিতে,
শুধু বিষ, শুধু বিষের ছটানি।

তোমার আবেগী ডং,
দুরের পথে বড় বেশী যন্ত্রনাময়,
অহমটুকু মুছে, একটু দাড়াও,
একটু নাও বিশ্রাম।

জীবন জীবনের কাছে আটকা,
তুমি আমি যতটুকু দুরত্বে,
তার চেয়েও কম দুরত্ব,
তোমার চলার পথ।

ছোট করো, ছোট করো,
তোমার পথ।
টেনে ধরো, টেনে ধরো,
টেনে ধরো লাগামখানি,
জীবন তো প্রায়ই যায় যায়।  
৫:৫৮:০০ PM

কলঙ্কিত ভালবাসা

ভালবেসে কলঙ্কিত হয়েছি আমি,
 কলঙ্কিত করেছি তোমাকে। 
এখন এ পোড়া মুখ নিয়ে যাবে কার ঘরে?
যেখানেই যাবে-
দেখবে ফিরে ফিরে আসছি আমি,
শয়নেও ঘুম হবে না।
স্বপনেও তৃপ্তি পাবে না।
সাথীর শক্ত বাহুতেও নিরাপত্তা পাবে না।
যখনি চোখ বুজবে,
আমাকেই দেখবে।
যখনি ভালবাসার নীল সাগরে ডুববে,
অন্ধকারাচ্ছন্ন সুখের বালিগুলোর উপর,
আছড়ে আছড়ে পড়বে।
আমার ভালবাসার নীল দংশনের ক্ষতগুলো,
বারে বারে তোমাকে ব্যথা দিবে।
বারে বারে তোমাকে দগ্ধ করবে।
কলঙ্কিত মন,
কলঙ্কিত শরীর,
কলঙ্কিত ভালবাসা নিয়ে,
পালাবে কোথায়?
ভালাবাসা যে তোমাকে পালাতে দেবে না।
তোমাকে লুকাতে দেবে না,
তোমার ক্ষতগুলো,
আমার ক্ষতগুলো,
যতই সুখের জলে স্নান কর না, কেন?
এ কালি মুছবে না,
কোনদিন মুছতেও পারবে না।
কারণ কলঙ্কিত মন,
কলঙ্কিত শরীর নিয়ে,
সুখের সমাধি রচনা করা যায়,
সুখের পৃথিবী নয়।
৫:৫৭:০০ PM

হৃদয় ঘন্টা

একটি সোনাঝরা আকাশ,
নীলাদ্রির নীল গগণ ছুঁয়ে,
যতটুকু নীল দৃষ্টি,
অবিশ্বাস অনাস্থা ভেদ করে,
যদি কখনো বেরিয়ে আসতে পার,
তবে চুরিসারে হৃদয়ের ঘন্টাটা বাজিও।

আমি আসব, আমি অবশ্যই আসব,
চুম্বনরত সুখের ক্ষণ ছেড়ে,
দূর্বিপাকের উদাসি বাতাসকে ঠেলে,
উল্টো স্রোতের কামনার ঢল ছেড়ে।

ও বাড়ীর মেজো মাসি,
এ পাড়ার দিদি,
কত কান মন্ত্রনায়,
দিশাকে করেছে বিদিশা,
চিন্তাকে করেছে অচিন্তা,
প্রেমকে করেছে হিংসা,
ভালবাসাকে করেছে ভাল বাসা,
তোমাকে করেছে মতিভ্রম চৈতন্য।

আমি কথা দিলাম, সত্যিকারের কথা দিলাম,
যতটুকু তোমার চৈতন্যে পড়েছে মরিচা,
মুছে দিব ভালবাসার নীলজলে,
ধুয়ে দিব সুখের পরশ ছুঁয়ে ছুঁয়ে।

পড়বে না মনে কখনও,
নীল কষ্টের বিষে,
তুমি ছিলে বিষাক্ত।
কান্নার বালিরেখাগুলো,
মুছে যাবে প্রেমের প্লাবনে,
খুজেও পাবে না কখনও.
তুমি ছিলে অবয়ার কাফন পড়ে।

শুধু চুপিসারে হৃদয়ের ঘন্টাটা বাজিও,
আমি জেগে উঠবো,
আমি উঠে দাড়াবো,
শুধুই তোমাকে সুখের সাগরে ভাসাতে।

(আমার প্রিয় বন্ধু সৈকত হাসানের জন্যে। তার দীর্ঘ দিনের ভালবাসায় এমন উছাটন, আমাকে নিজেকেই উছাটনে ফেলে দিয়েছে। বন্ধু লাভ ইজ পাওয়ার, জাস্ট লাভ ইট, ইউ উইল গেট পাওয়ার, দ্যাট’স পাওয়ার লিড ইউ ইন দ্যা রিয়েল লাইফ। ভাল থেকো)
৫:৫৬:০০ PM

অসম প্রেম

আমি না একা বেরুতে পারি না।
মা বেরুতে দেয় না।
আমার নিজেরও ভয় লাগে।

ও তাই নাকি?
কেন তুমি ছোট নাকি?

এই ! তুমি জান?
গতকালকে না আমি  পাশের বাড়িতে
গিয়ে দেখি ----
ও মা কতো পুতুল,
ছোট খরগোশটা উঠান জুড়ে,
নেচে বেড়াচ্ছে।
আমার না খরগোশটাকে,
খুব আদর করতে  ইচ্ছে করল।
কিন্তু জানো?
ওরা না আমাকে ধরতেই দিল না।
আমার খুব কান্না পাচ্ছিল।

ও তাই!
তাহলে তোমার জন্যে একটা খরগোশ কিনে দেই,
গোটা দুয়েক বড় সাইজের পুতুল,
তুমি দিনরাত থরগোশ পতুল নিয়ে খেল,
আর আমি তোমার খেলার গল্প শুনবো।
হ্যাঁ, ঠিক আছে।

সত্যি বলছ!
তুমি আমায় খরগোশ পতুল কিনে দেবে।
কবে কিনে দেবে গো?
বল না? কবে দেবে?

দেব।
ষোড়শ বসন্তে তুমি এখনো  পতুল খেলো,
আর আমি পোড়ি ফাগুনের আগুনে,
হৃদয়ের দহন দাউ দাউ জ্বলে,
নিভার তরে ছুটি তোমার কাছে।
কিন্তু, একি!

কি বলো তুমি?
আমি তো বুঝি না কিছু।
আমার না খুব ঘুম পাচ্ছে,
ঘুমাই।

আচ্ছা।

বাই।

কবির নির্ঘূম রাত,
ঘনকালো থেকে আরও অন্ধকার,
আগামীর পথটাও বড় বেশী অনিশ্চিত,
শুধু ভালবাসার বিনিময়ে,
ভালবাসাটাকে আগলে রাখা।

About

Ghonokuasha Baskey is a Santal writer of Bangladesh. He has started writing since 1985.